বৃষ্টিরাতে দেওর বৌদি


 বন্দি রাতের বৃষ্টি


গ্রামের পুরনো ভাঙাচোরা বাড়িটা হঠাৎ ঝড়ে কাঁপতে লাগল।

আকাশ কালো হয়ে গেছে, মুষলধারে বৃষ্টি নামল।

বউদি আর দেওর একসাথে একটা ছোট ঘরে আশ্রয় নিলেন।

দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেল, আর তারা দু’জন আটকা পড়লেন।


### নীরবতার ভার


ঘরের ভেতর অন্ধকার, কেবল মাটির প্রদীপে ক্ষীণ আলো।

বৃষ্টি ধপধপ শব্দে পড়ছে টিনের চালায়।

দু’জনেই চুপ, অথচ নীরবতাটা এত ভারী যে বুক ফেটে যাচ্ছে।


বউদি ভেজা আঁচল কষে বুকে টেনে ধরলেন।

দেওরের চোখ বারবার তাঁর দিকে চলে গেল।

ভেজা শাড়ির কাপড় শরীরে লেগে আছে, আর তাঁর নিঃশ্বাস কাঁপছে বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।


### নিষিদ্ধ নৈকট্য


হঠাৎ হাওয়ায় প্রদীপ দপ করে নিভে গেল।

ঘরটা অন্ধকারে ডুবে গেল।


দেওর ফিসফিস করে বলল—

“ভয় পেও না, আমি আছি।”

তার হাত বউদির হাতে ছুঁয়ে গেল।

বউদি আঁতকে উঠলেও হাত সরালেন না।


বৃষ্টি যেন আরও জোরে পড়তে লাগল, বাইরে ঝড়ের শব্দ, ভেতরে নিঃশ্বাসের ধকধকানি।

তাদের হাত থেকে কাঁধে, কাঁধ থেকে কোমরে ছুঁয়ে গেল অদৃশ্য আগুনের মত টান।

বউদি চোখ বন্ধ করলেন, কিন্তু শরীর সরে এল না—বরং দেওরের কাছে আরও ঝুঁকে গেলেন।


### বৃষ্টি আর শরীর


ঘরের ভেতর ভেজা মাটির গন্ধ, বাইরে বৃষ্টির গর্জন।

দু’জনের শরীর এক হয়ে উঠল অন্ধকারের ভেতর—

স্পর্শে, উষ্ণতায়, নিঃশ্বাসে।


তারা দু’জনেই জানে এটা ভুল, এটা সমাজ কখনও মেনে নেবে না।

তবুও সেই ঝড়-বৃষ্টির রাতে তারা নিজেদের হারিয়ে ফেলল একে অপরের মধ্যে।


### অভিশাপের শুরু


ভোরে যখন দরজা খুলল, গ্রাম নিস্তব্ধ।

কিন্তু দেওর–বউদির চোখে তখনও সেই রাতের অন্ধকার বেঁচে আছে।


বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু ভেতরের ঝড় আর থামেনি।

তারা দু’জনেই জানে—

যা ঘটেছে, তা আর মুছে ফেলা যাবে না।


আমবাগান সাক্ষী ছিল আগের রাতে, আর আজ ঘর আর বৃষ্টি সাক্ষী হলো তাদের নিষিদ্ধ প্রেমের।

একটা প্রেম, যা আলোতে আসতে পারবে না—

কিন্তু অন্ধকারে প্রতিবার বৃষ্টির শব্দ শুনলেই আবার জেগে উঠবে।

Comments

Popular Posts